| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
   * অভিনন্দন নবনির্বাচিত দুই মেয়র --- যুবলীগ নেতা আব্দুল মালেক   * বন্ধের আশঙ্কায় দেশের অর্ধেক ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং কোম্পানি   * দুর্যোগে মানুষের পাশে কাউন্সিলর মোঃ জাবেদ আলী   * অসহায়দের পাশে এমপি ইকবাল হোসেন সবুজের কর্মী নূরে আলম   * করোনা মোকাবেলায় মাঠে রয়েছেন গোলাম কিবরিয়া খান রাজা   * ব্রেইন স্ট্রোকে জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু   * জীবপ্রযুক্তিবিদ সম্মেলনে ১ম পুরস্কারে ভূুষিত হলেন চৌদ্দগ্রামের ড. মো. আমিরুল ইসলাম   * ঠিকাদার শামীম জেলে ॥ থমকে রয়েছে শতশত কোটি টাকার উন্নয়ন কর্ম   * সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার   * মিশরে মসজিদ, গির্জা বন্ধ  

   পাঁচমিশালী
  কাফনের কাপড় আর কবরের মাটি সবার এক রকমই
  13, May, 2020, 11:36:20:AM

মোঃ ফজলুল হক মাস্টার

বিবেক বুদ্ধির বলেই মানুষ শ্রেষ্ঠ। বিবেক বুদ্ধির তোয়াক্কা এবং কদর করে আমরা চলতে শিখি না। মৃত্যু গরিব-ধনী, সাম্প্রদায়িক-অসাম্প্রদায়িক কিংবা জাতভেদে আলাদা করে হয় না। গরিবদের গতর খাটা ঘাম ঝরানো টাকায় তথাকথিত বড়লোক, বড় চাকুরেওয়ালা আর রাজা-বাদশাদের বেঁচে থাকতে হয়। তাদের উচ্চবিত্ত বিরাটকায় বিলাশী এবং আয়েশি জীবনের মূল চালিকাশক্তি ওইসব মেহনতি মানুষই।
যারা বিপুল শক্তির মালিক বলে জাহির করে আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে বলে দাবি করে সবাই এখন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যর্থ। মস্তিষ্ক যাদের বিকৃত চিন্তন শক্তিতে যারা খন্ডিত পর্যায়ে তারাই নিজেদের সভ্যতর জাতি হিসাবে দাবি করে অসভ্যতার বীজ দিকে দিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের প্রচেষ্টা চলছে, এর বাজারজাত বিপণন কীভাবে হবে, না শক্তিধর রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণে চলে যায় অনুরূপ আশঙ্কাও বিদ্যমান। এর পরও বলা যায় না আমাদের বুদ্ধি বলিষ্ঠ। বলা যায় না মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এটা নিয়ে ভোগবাদীরা সামান্যতম বিচলিত। তা মনে হয় কি? তারপরও সুসংবাদ হলো- যৌথ ফান্ড হচ্ছে সবাই যাতে করোনার প্রতিষেধক হাতে পায়।
কত নান্দনিক বাড়ি সাদ্দামের ছিল, মৃত্যুভয়ে লাশ রাখার মতো গর্তের মাঝে লুকিয়ে ছিল। ফেরাউনের কওম নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রাসাদতুল্য বাড়ি করছে বাঁচার জন্যে, মৃত্যুর তাড়া থেকে তারা কি বাঁচতে পারছে? করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক আকাশসম। বাঁচার আকুতি রাজার আর প্রজার তো একই রকমেরই। জীবন এক সকাল, এক বিকালের মতোই। মালিক আর শ্রমিকের জন্যে কবরের মাটি সমান। সমান কাফনের কাপড়টাও। প্রজার জন্যে রাজা। প্রজার বেতন নেই বরং রাজারা বেতনভুক্ত। জ্ঞানীদের কাছ থেকে প্রত্যাশা বেশি কিন্তু তারাই ক্ষমতার অপব্যবহার করতে উঠে পড়ে লেগে থাকে। ভুলে যায় দায়িত্ব আর ভুলে যায় তার মর্যাদার কথা।
শ্রমিক কৃষক আর সাধারণের মনকাড়ার ফাঁদ পেতে রাজনীতিবিদরা মার্কাটাও নির্ধারণ করে থাকে। নৌকাই বলুন, ধানের শীষই বলুন; কাঁচি, লাঙ্গল আর গামছাই বলুন এসবই হতদরিদ্রের নিত্যদিনকার ব্যবহার্য উপকরণ। এই অতি সাধারণের ভোট পাবার আশায় প্রার্থীরা খেত খামারের বাতর/আইলে চলে যায়। কর্দমাক্ত, ঘর্মাক্ত শরীরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোলাকুলির দৃশ্যে এক অন্তরঙ্গতার বাজনা বেজে উঠে তখন। প্রজাদের সেবাদাস হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন সাংসদরা এবং প্রজাতন্ত্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও। ভন্ডামি আর নোংরামি শুরু করে যখন গরিবের টাকায় কেনা গাড়িতে পাতাকা ওড়ে। এসব সেবাদাস ভুলে যায় তাদের ‘মনিব’ ওই সাধারণ প্রজারাই। ডাক্তাররা বলছেন- তাদের সুরক্ষার জন্যে ইকুইপমেন্ট নেই। পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মাসিক বেতন থেকেও তো আতরক্ষার কিছুটা সরঞ্জাম ক্রয় করা যায়। সরকারি ডাক্তার বলে কথা! হাসপাতাল ফেলে চলে যায় প্রাইভেট ক্লিনিকে। বড় বড় সিনিয়র ডাক্তার তো হাসপাতালে অবস্থানই করেন না। আমাদের শিক্ষকরা পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যে বছরে ১০টি টাকাও খরচ করার মানসিকতা রাখেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কলারশীপে অধিকাংশ সময়ই বিদেশে কাটান। টাকা চাই সবার। টাকা কি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কোনো কাজে আসে? আসে না। ইঞ্জিনিয়াররা বালিশ কান্ড ঘটালো- এই অবৈধ আয় কি মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসে? আসে না। উচ্চবিত্ত পদাসীন তাদের ওজন কি আছে? নেই। সবাই অর্থের ধান্দায় টাল-মাটাল। এখন মর্যাদাশীল মানুষদের ওজন করা শুরু হয়েছে। ভূমিদস্যু, বনখেকো, টেন্ডরবাজি, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো কারবার, ত্রাণের মাল লুটেরারা, তারা ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের মানবিকতার নিকট পরাজিত। এবং মহান ভিক্ষুকের কাছে বড় ধরনের মানুষগুলো উৎকর্ষের দিক দিয়ে বিরাটভাবে খাটো হয়ে গেল। মনুষ্য তান্ডবে জগৎ এখন বিরানভূমিতে নিপতিত। চাঁদ, সূর্য আবর্তিত হচ্ছে। তা হচ্ছে একটা নিপুণ শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। সূর্যের আলো কথাকথিত বড় মানুষদের জন্যে এবং অতি নগণ্য মানুষের জন্যে আলাদা আলাদা আলো ছড়ায় না। ক্ষমতার অপব্যবহারকারীরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সীমা লঙ্ঘন করছে অনেকে এবং তা করছে ফায়দা হাসিলের জন্যে। ১৯৭৫-এর পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের খেলা চলছিল নিভু নিভুভাবে। যারা এটা করতে চেয়েছিল তাদের শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত। অর্থ সম্পদের ব্যাপ্তি হয়েছে তাদের কিন্তু এখন কেউ নির্বাসনে কেউ পলাতক আর যাদের উপস্থিতি রয়েছে তারা নির্বাসনে থাকা নেতার নাম উচ্চারণেও লজ্জাবোধ করছে। স্বাধীনতার বিরোধীরা যারা খুন-ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কাজে জড়িত ছিল তারাও বিচারের সম্মুখীন হয়েছে। সত্য অনেক সময় খানাখন্দে হোঁচট খায়। সত্য লিখতে গেলে কেউ রাগ হয় কিন্তু সত্য অনিবার্য নিয়মেই আলোকিত হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ আচমকা নির্বাসন থেকে ফিরে এসে ফাঁসি বরণ করতে বাধ্য হয়েছে। করোনা সংকটকালে আজব গুজবও চলছে আবার ছন্দময় নান্দনিক আনন্দের সুবাতাসও বইছে। বিত্তবান অনেকেই আত্নমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রত, সমাজের আরও অনেক মানুষ সরকারের পাশাপাশি মানবতার স্বীকৃত পথে স্বউদ্যোগে আর্ত মানুষদের সহায়তা দিচ্ছে। আবার কিছু রাজনীতিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের জন্য অস্থিরতায় ভুগছেন। কথায় কথায় মুখে ফেনা তোলা আর কাজ করা সমার্থক নয়। তারা এখনো নিজেদের উদ্যোগে করোনা সংকট নিরসনে কিছুই না করলেও টাকায় ভাড়াটে নিয়োগ করে ত্রাণের মালামালের জন্যে হৈচৈ করাচ্ছে। সরলপথ ষড়যন্ত্রকারীরা, গুজবওয়ালারা খুঁজে কখনোই পাবে না। সৃষ্টিকর্তা যদি শাস্তি দেওয়া শুরু করেন মানুষতো দূরে থাক কোনো জীবজন্তুই ভূপৃষ্ঠে টিকতে পারতো না। কিন্তু সতর্কবার্তা পর্যায়ক্রমে দিয়েই চলছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার সত্যরূপ প্রতীক। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তিনি কল্পনাতীত পর্যায়ে মর্যাদাশীল শাসকদের ১ম সারিতে। কিন্তু দলীয় এমপি- মন্ত্রীদের চারপাশে ৪০ ভাগই বিরোধী বলয়ের ফেউর ঢুকেছে। এখন অনভিজ্ঞ, অপরিপক্ব সাংসদদের চিহ্নিত করা জরুরি। আমরা এসব লিখতে গেলেও অনেকে রাগ হবেন। আবার আপনজনরাও বলে থাকে আপনার লিখে লাভটা কি? দলের যারা মুখপাত্র তারা অনেকেই ঝসধৎঃষবংং। আজ সবার মুখে মুখে নাম একটাই, সেটা আর কেউ নয়, আপনিই বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেই বলছি, দলীয় নেতারা কি করতে পারবেন, আপনার মুখপাত্ররা কি করতে পারবেন, এমপি-মন্ত্রীরা কতটা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন তা আমলে নেওয়াও যেমন জরুরি তেমনি বিহিত করাটাও জরুরি। কেননা আপনার বিকল্প আপনিই এবং সিদ্ধান্ত আসুক ভন্ড আর অনভিজ্ঞদের বিদায়ের। আমাদের প্রত্যাশা অনুরূপই।

লেখক
মো: ফজলুল হক মাস্টার, প্রধান শিক্ষক, নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয়, জামালপুর সদর, জামালপুর, মোবাইল : ০১৭২১৫৭৫৪৯৩



       
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     পাঁচমিশালী
কাফনের কাপড় আর কবরের মাটি সবার এক রকমই
.............................................................................................
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ২
.............................................................................................
ইফতারে পুষ্টিকর পানীয়
.............................................................................................
কীভাবে রাগ কমাবেন
.............................................................................................
কিভাবে রক্তস্বল্পতা দূর করবেন
.............................................................................................
হজে যাচ্ছেন হানিফ সংকেত
.............................................................................................
বজ্রপাতে দিনমজুরের মৃত্যু
.............................................................................................
ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিকসমিতির নিন্দা
.............................................................................................
পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে কুলাউড়ায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত
.............................................................................................
প্রবীণতম ওরাংউটাং
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
চেয়ারম্যানঃ মনিরুজ্জামান অপূর্ব, সম্পাদকঃ জাকির এইচ. তালুকদার।
হেড অফিসঃ ২ আরকে মিশন রোড ঢাকা ১২০৩। সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ১৯ নিউ ইস্কাটন রোড ঢাকা ১০০০; ফোনঃ ০১৭১৩৫৯২৬৯৬, ০১৬৭৫৯৬৬৬১৩,
ই-মেইলঃ dtvbanglahr@gmail.com
   All Right Reserved By www.dtvbangla.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD