অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে আদালত রায় দেন। আদালতে . ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ জানান, আদালত প্রতিষ্ঠানটির করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এনবিআরের কর দাবি বহাল থাকল। তিনি বলেন, "আমরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছি। মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর কর পরিশোধের সময়সীমা স্পষ্ট হবে বলে তিনি জানান

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ট্যাক্স জোন-১৪ গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবি করে দুটি নোটিশ জারি করে। প্রতিষ্ঠানটি নথিপত্র সংগ্রহের জন্য এক মাস সময় চাইলেও কর কর্তৃপক্ষ তা rejects করে। পরে রিভিউ আবেদনও খারিজ হলে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের করে

২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে কর দাবির কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরবর্তীতে স্থগিতাদেশ কয়েকবার বর্ধিত হয়। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে কর কর্তৃপক্ষের দুটি আদেশ বাতিল করেন। তবে আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের ১১ মার্চ রুলটি পুনরায় শুনানি করে গুণাগুণ বিবেচনায় নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন

এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের অক্টোবর . মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় প্রত্যাহার করেন। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয় এবং সেই বেঞ্চই আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেন

উল্লেখ্য, . মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন