ঢাকা, ২১ জুলাই: ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এই সভায় পাটখাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। এতে উভয় মন্ত্রণালয়ের সচিব, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পাট অধিদপ্তর, পাটশিল্প কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভার শুরুতেই পরারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবীত করার বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পাটখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সোনালী আঁশের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিশেষভাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাটশিল্পের উন্নয়নে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলির সহায়তায় অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দেন। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি পাটের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাটের নতুন বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সরকারের দুই মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ‘যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ’ জাতীয় পর্যায়ে পাট প্রদর্শনীর জন্য কর্মপন্থা ঠিক করা, পাট শিল্পের উন্নয়নে বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ, পাটের জন্য গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন ও এই শিল্পে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মিল-আধুনিকায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
এছাড়া, প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক পাট এক্সপোতে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে পাটের বাধ্যতামূলক ডিসপ্লে সেন্টার ও গিফট শপ স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত স্কুল ব্যাগ তৈরির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পাটবীজের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।