ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) দুই সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চীনের শিয়ান সফর শেষে দেশে ফিরেছে। গত ২৪-২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল শিয়ান জিয়াওতং বিশ্ববিদ্যালয় ও এর ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের সাথে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা জোরদার করা।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। প্রতিনিধিদলের অপর সদস্য ছিলেন ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।
সফরের শুরুতে শিয়ান জিয়াওতং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলের ডিনের সভাপতিত্বে এক আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেডিকেল স্কুলের ভাইস ডিন অধ্যাপক শুফেং ঝাং (Prof. Xufeng Zhang), ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইউ ইয়াও (Prof. Yu Yao) এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় যৌথ গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী বিনিময়, যৌথ প্রকাশনা, বৈজ্ঞানিক সম্মেলন এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ এবং ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের মধ্যে ভার্চুয়াল টিউমার বোর্ড, যৌথ অনলাইন ক্লাস, কেসভিত্তিক আলোচনা ও বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ শিগগিরই শুরু করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতা অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, সেইসঙ্গে কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন কর্মসূচির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রটোকল, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং ট্রান্সপ্লান্ট-পূর্ব ও পরবর্তী রোগী ব্যবস্থাপনায় দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেন।
সফরকালে প্রতিনিধিদল ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের অনকোলজি, কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন, কার্ডিওলজি, কার্ডিওভাসকুলার সার্জারি, ফার্মেসি, গবেষণাগার ও বায়োব্যাংকসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক বিভাগ পরিদর্শন করে। তারা হাসপাতালের প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাব্যবস্থা, রোগী ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা অবকাঠামো সম্পর্কে সরেজমিনে মতবিনিময় করেন।
এছাড়া, প্রতিনিধিদল দশম জিং-ওয়েই টিউমার কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিএমইউর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অপরদিকে, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন সম্মেলনে আন্তর্জাতিক চেয়ার প্যানেলের সদস্য ও আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ফুসফুসের ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসাবিষয়ক এক অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা, অগ্রগতি, সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তিনি যৌথ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, ক্যান্সার গবেষণা, দক্ষ জনবল উন্নয়ন ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর উদ্যোগ ও সমন্বয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের অনকোলজি বিভাগের মধ্যে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনায় রূপ নেবে। এর ফলে বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে ক্যান্সার চিকিৎসা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনসহ বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী গত মে মাসে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।