রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কুখ্যাত 'কাশেম গ্যাং'। ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় ব্যবসার প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, হুমকি এবং হামলার একের পর এক ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। সম্প্রতি চাঁদা না পেয়ে এক চুল ব্যবসায়ীর দোকানে ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগে এই গ্যাংয়ের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী—কাশেম ও সেলিমকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী ও র‍্যাব।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরের লিটন নামের এক চুল ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে কাসেম ও সেলিমের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী দলটি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দলবল নিয়ে লিটনের দোকানে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা ওই ব্যবসায়ীকে শারীরিক নির্যাতন ও রক্তাত্ত করে। এ ঘটনার পরপরই কাসেম গ্যাংয়ের নজর এড়াতে আসামীরা কক্সবাজারে গিয়ে আত্মগোপন করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গতকাল র‍্যাব তাদের কক্সবাজার থেকে আটক করতে সক্ষম হয়।


গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে পল্লবী থানা হেফাজতে রয়েছে এবং পুলিশ তাদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করছে।


চাঁদা না পেলেই প্রাণনাশের হুমকি
অভিযোগ রয়েছে, কাশেম গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিধি কেবল লিটনের ঘটনামাতেই সীমাবদ্ধ নয়। মিলনে নামের আরেক ব্যবসায়ীর কাছেও সম্প্রতি চাঁদা দাবি করে কাশেম এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।


স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, ইসিবি, মাটিকাটা, সাগুফতা, পল্লবী, আলীনগর এবং বাউনিয়াবাদসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন কাসেম ও সেলিমের গ্যাংয়ের নাম শুনলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নেপথ্যে 'হাড্ডি সোহাগ'


এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা কেউ স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছিল না। কারাবন্দী কিংবা আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী 'হাড্ডি সোহাগ'-এর সহযোগী হিসেবে তারা মাঠে সক্রিয় থেকে চাঁদাবাজির এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল।


পল্লবী থানার এক কর্মকর্তা জানান, "মিরপুর ও পল্লবীকে অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। কাশেম ও সেলিমের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডে এনে চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হবে।"
তাদের গ্রেফতারে আপাতত স্বস্তি মিললেও হাড্ডি সোহাগের পুরো গ্যাং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না বলে জানিয়েছেন মাটিকাটা ও সাগুফতা এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা।