নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: 
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ৪৮টি পূজামণ্ডপে উদযাপিত হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে আনন্দঘন পরিবেশ।

এদিকে পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে মাঠে রয়েছেন উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেনের নির্দেশনায় নন্দীগ্রাম উপজেলার ১ নম্বর বুড়ইল ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেল। এ ছাড়াও বিএনপি, কৃষকদল, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে অংশ নেন। 

এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব যেনো সবাই নির্বিঘ্নে, আনন্দ ও উৎসাহের মধ্যদিয়ে উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য আমরা সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানাতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। 

উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, নন্দীগ্রাম আমাদের সবার। এখানে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমাদের সামাজিক বন্ধন ও মানবিক মূল্যবোধ এক। শারদীয় দুর্গাপূজা যেনো প্রতিটি মণ্ডপে আনন্দ, শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

 

তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেনো নির্ভয়ে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সেজন্য আমরা পাশে আছি। দিন-রাত যেকোনো সময় কোনো সমস্যার খবর পেলে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসবো। তবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় তিনি সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে নন্দীগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখার আহ্বান জানান।