মিজানুর রহমান মিজান, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
উত্তর জনপদের দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় মধ্য আশ্বিনে মৌসুম পরিবর্তনের সাথে নানা প্রকার রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ধারিত শয্যায় জায়গা না হওয়ায় রোগিদের মেঝেতে শুয়ে নিতে হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (৫০ শয্যা হাসপাতালের) আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার শাহরিয়ার পারভেজ জানান, দিনে প্রচণ্ড গরম আর রাতে মৃদু ঠাণ্ডা আবহাওয়া বিরাজ করায় মধ্য আশ্বিনে এলাকায় নানা প্রকার রোগ ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এলাকার নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সর্দি-কাশি, গলা ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট (এ্যাজমা), ডায়রিয়া, পেট ব্যাথাসহ ঋতু পরিবর্তন জনীত বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। এতে নারী, শিশু এবং দীর্ঘ মেয়াদী রোগে আক্রান্ত যেমন-কিডনী, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগিরা বেশি আক্রাস্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬ থেকে সাড়ে ৬শ’ রোগি এবং জরুরী বিভাগে ১১০ থেকে ১২০ জন রোগি চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিদিন ৬-৭ জন প্রসূতিকে নরমাল ডেলিভারি করানো হচ্ছে। কম আক্রান্ত রোগিদের বহির্বিভাগে ও জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হলেও বেশি আক্রান্ত ৭০/৮০ জন রোগিকে প্রতিদিন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হচ্ছে। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭০/৮০ জন রোগি ভর্তি হলে স্বাভাবিক ভাবেই শয্যা সংকটের সৃষ্টি হয়। ফলে অনেক রোগিকে মেঝেতে বা বিকল্প শয্যায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার শাহরিয়ার পারভেজ আরো জানান, হঠাৎ করে রোগির বাড়তি চাপের কারণে ঔষধ সীমিত হয়ে আসলেও ঔষধ সংকটের সম্ভাবনা নেই। মৌসুমী রোগ ব্যাধি এড়াতে তিনি নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যাক্তিদের প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়ায় পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক আরমান আলী বলেন, তার মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও সেবা পেয়ে তার মেয়ে এখন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে।