জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালকের নিকট থেকে '১০০ উইমেন হিরোস' সম্মাননা গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের কৃষি উদ্যোক্তা বিলকিস খাতুন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এফএও'র ১০০ উইমেন হিরোস ইন এগ্রিফুড সিস্টেমস' কর্মসূচির আওতায় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বের ১০০ জন নারীকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ বছর এফএও'র এই সম্মাননা প্রদান কর্মসূচিটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ ২০২৬ সালকে 'আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ অক্টোবর 'আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস' পালিত হচ্ছে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষকে সামনে রেখে এফএও বিশ্বব্যাপী কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনয়নকারী নারীদের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এফএও জানিয়েছে, এই সম্মাননার মাধ্যমে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণ ও হস্তান্তর এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা এই নারীরা প্রাকৃতিক সম্পদের রক্ষক, স্থিতিশীলতার নির্মাতা এবং জ্ঞান ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে কাজ করছেন।

বিলকিস খাতুন বাংলাদেশের একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তিনি কৃষি খাতে সফল উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার এই অর্জন বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের জন্য এক গৌরবের বিষয়। তার এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের নারীরাও কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

বিশ্বের ১০০ জন নারীর মধ্যে বাংলাদেশের একজন নারী স্থান পাওয়া দেশের জন্য বড় ধরনের অর্জন। এটি বাংলাদেশের কৃষি খাতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও অবদানেরই প্রতিচ্ছবি।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিলকিস খাতুনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তার এই অর্জনে গর্ব expressed করেন। রাষ্ট্রদূত রকিবুল হকের উপস্থিতি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে নারীদের অবদানের প্রতি সমর্থন ও স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ।

বিশ্বের অন্যান্য সম্মানিত নারীরা

বিলকিস খাতুনের পাশাপাশি একই দিনে বিশ্বের আরও ৯৯ জন নারী এই সম্মাননা গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, সার্বিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পেরু, মেক্সিকো, মরক্কো, তানজানিয়া, উগান্ডা, ঘানা, ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে, মালাউই, মোজাম্বিক, মাদাগাস্কার, কম্বোডিয়া, লাওস, মঙ্গোলিয়া, ভুটান, মালদ্বীপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারী উদ্যোক্তা ও কৃষক রয়েছেন। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে—যেমন মরুকরণ প্রতিরোধ, টেকসই কৃষি, ঐতিহ্যগত কারিগরি সংরক্ষণ, কৃষি সমবায় উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়, জৈবিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

এফএও জানিয়েছে, এ বছর এই সম্মাননার জন্য বিশ্বের ১৩১টি সদস্য দেশ থেকে মোট ৬০৯টি মনোনয়ন জমা পড়ে। এরপর যোগ্যতা যাচাই, উচ্চপর্যায়ের মূল্যায়ন এবং দুই দফা পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ১০০ জন নারীকে নির্বাচিত করা হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ।

বিলকিস খাতুনের এই অর্জন বাংলাদেশের কৃষি খাতে নারীদের সম্ভাবনারই প্রমাণ। তার এই সাফল্য দেশের অন্যান্য নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের কৃষি খাতে নারীরা দিন দিন আরও বেশি করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিলকিস খাতুনের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এফএও'র এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে সামগ্রিক অগ্রগতিরও প্রতিফলন। সরকারের কৃষি উন্নয়ন নীতি, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলেই এমন সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।