| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
   * খরার ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, আশাবাদী বাংলাদেশ   * ফেরির চেয়ে পদ্মা সেতুতে খরচ বেশি, চালক-যাত্রীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া   * ইতালির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দলে চমক আর চমক   * নগরকান্দায় মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রী বখাটের উৎপাতে বিষপান - বখাটের আত্মহত্যার নাটক   * ‘ঘর ঠিক নেই’ বলেই আর্সেনালের কাছে হার চেলসির   * সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যাসহ তিন মামলা, আসামি ১৩০০, গ্রেপ্তার নেই   * এসপির ইফতারে আইভী-শামীম এক টেবিলে, ‘কথা বলেননি’ কেউই   * নগরকান্দা স্ত্রীকে বিদ্যুৎ শট ও ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   * সাংবাদিকের বাড়ীতে চাঁদাবাজী করতে এসে   * নগরকান্দায় বিখ্যাত বাউল স্মৃতি সংঘ গানের অনুষ্ঠানে হাজারো ভক্তের মিলন মেলা  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নবীজি যেভাবে রোজা রাখতেন

ডিটিভি বাংলা নিউজঃ
রমজান বরকতময় মাস। এ মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ মাসে এমন একটি মহিমান্বিত রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
রসুলে পাক (সা.)-এর রোজাগুলো কেমন ছিল? তিনি সাহরিতে কী খেতেন, ইফতার করতেন কোন ফলটি দিয়ে? আর তাঁর সাহাবিরাই বা রোজা করতেন কোন নিয়মে? সব মুসলমানের মধ্যেই এ সম্পর্কে আগ্রহ থাকাই স্বাভাবিক। রমজানের প্রস্তুতির জন্য শাবান থেকেই নফল রোজা শুরু করতেন নবীজী (সা.)। হজরত আয়শা (রা.) বলেন, ‘আমি রসুল (সা.)-কে শাবান মাস ছাড়া আর কোনো মাসেই এত বেশি নফল রোজা রাখতে দেখিনি। (বুখারি) তিনি (সা.) সাহাবিদেরও রোজার প্রস্তুতির জন্য উৎসাহ দিতেন।

হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) কোনো একজনকে বলছিলেন, হে অমুকের পিতা! তুমি কি শাবান মাসের শেষ দিকে রোজা রাখনি? তিনি বললেন, না। রসুল (সা.) বললেন, তাহলে তুমি রমজানের পরে দুটি রোজা পূর্ণ কর। (বুখারি)

রমজানের ঠিক আগে আগেই রসুল (সা.) রমজানের ফজিলত এবং বরকত সম্পর্কে সাহাবিদের জানিয়ে দিতেন। এ সম্পর্কে অনেক হাদিসের মধ্যে একটি হাদিস উল্লেখ করছি। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান বরকতময় মাস। এ মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ মাসে এমন একটি মহিমান্বিত রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’ (মুসলিম) বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায় রসুল (সা.) চাঁদ দেখে রোজা শুরু করতেন। হাদিসের বর্ণনা থেকে পাওয়া কেউ এসে তাকে সংবাদ দিত তিনি তা ঘোষণা করার অনুমতি দিতেন। তিনি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখেই রোজা ছাড়।’ (বুখারি)

জাঁকজমকহীন অনাড়ম্বর রোজা পালন করতেন রসুল (সা.)। নবীজী (সা.)-এর সাহরি ও ইফতার ছিল সাধারণের চেয়েও সাধারণ। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘রসুল (সা.) কয়েকটি ভিজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভিজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভিজা কিংবা শুকনো খেজুর কোনোটাই না পেলে পানিই হতো তার ইফতার।’ (তিরমিজি) রসুল (সা.) সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করতে পছন্দ করতেন। ইফতারে দেরি করা তিনি পছন্দ করতেন না। তেমনিভাবে রসুল (সা.)-এর সাহরিও ছিল খুব সাধারণ। তিনি (সা.) দেরি করে একেবারে শেষ সময়ে সাহরি খেতেন। সাহরিতে তিনি দুধ ও খেজুর পছন্দ করতেন। এ সম্পর্কে সময়োপযোগী একটি হাদিস উল্লেখ করতে হয়। আহলে সুফফার অন্যতম সদস্য, সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন আজান শুনে, আর এ সময় তার হাতে খাবারের পাত্র থাকে, সে যেন আজানের কারণে খাবার বন্ধ না করে, যতক্ষণ না সে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ না করে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মুয়াজ্জিন এ আজান দিতেন ফজর উদ্ভাসিত হওয়ার পরই। (সুনানে আবু দাউদ, সাওম অধ্যায়, হাদিস নং ২৩৪২; মুসনাদে আহমাদ; ২য় খণ্ড, হাদিস নং ৫১০, সনদ হাসান।)
অন্যান্য সময়ের চেয়ে রমজানে রসুল (সা.)-এর ইবাদতের পরিমাণ বেড়ে যেত। বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি (সা.) প্রবাহিত বাতাসের মতো দান করতেন। রমজানে রসুল (সা.) জিবরাইল (আ.)-কে কোরআন শুনাতেন। আবার জিবরাইল (আ.) হজরত (সা.)-কে কোরআন শুনাতেন। রমজানের রাতে তিনি (সা.) খুব কম সময় বিশ্রাম নিয়ে বাকি সময় নফল নামাজে কাটিয়ে দিতেন। নির্ভরযোগ্য হাদিস থেকে জানা যায়, রসুল (সা.) তিন দিন সাহাবিদের নিয়ে তারাবি পড়েছেন। চতুর্থ দিন থেকে তিনি ঘরে আর সাহাবিরা বাইরে নিজেদের মতো নামাজ পড়তেন। খলিফা ওমর (রা.)-এর সময় জামাতে তারাবি পড়ার প্রচলন হয়। আমাদের দেশে রমজান এলেই তারাবি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। যা মোটেই কাম্য নয়। তারাবি সুন্নত নামাজ। আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হারাম। আমাদের সুবিধামতো আমরা নামাজ পড়ব, অসুবিধা থাকলে না পড়ব। কিন্তু সমাজে ফেতনা সৃষ্টি করার অধিকার আমাদের কারও নেই।
শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা রসুল (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নত ছিল। ইতিকাফে কদরের রাত তালাশ করাই মূল উদ্দেশ্য। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য! শেষ দশকে আমাদের মসজিদগুলো মুসল্লিশূন্য থাকে। রসুল (সা.) শাওয়ালের চাঁদ দেখে রোজা ছাড়তেন।

নবীজি যেভাবে রোজা রাখতেন
                                  

ডিটিভি বাংলা নিউজঃ
রমজান বরকতময় মাস। এ মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ মাসে এমন একটি মহিমান্বিত রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
রসুলে পাক (সা.)-এর রোজাগুলো কেমন ছিল? তিনি সাহরিতে কী খেতেন, ইফতার করতেন কোন ফলটি দিয়ে? আর তাঁর সাহাবিরাই বা রোজা করতেন কোন নিয়মে? সব মুসলমানের মধ্যেই এ সম্পর্কে আগ্রহ থাকাই স্বাভাবিক। রমজানের প্রস্তুতির জন্য শাবান থেকেই নফল রোজা শুরু করতেন নবীজী (সা.)। হজরত আয়শা (রা.) বলেন, ‘আমি রসুল (সা.)-কে শাবান মাস ছাড়া আর কোনো মাসেই এত বেশি নফল রোজা রাখতে দেখিনি। (বুখারি) তিনি (সা.) সাহাবিদেরও রোজার প্রস্তুতির জন্য উৎসাহ দিতেন।

হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) কোনো একজনকে বলছিলেন, হে অমুকের পিতা! তুমি কি শাবান মাসের শেষ দিকে রোজা রাখনি? তিনি বললেন, না। রসুল (সা.) বললেন, তাহলে তুমি রমজানের পরে দুটি রোজা পূর্ণ কর। (বুখারি)

রমজানের ঠিক আগে আগেই রসুল (সা.) রমজানের ফজিলত এবং বরকত সম্পর্কে সাহাবিদের জানিয়ে দিতেন। এ সম্পর্কে অনেক হাদিসের মধ্যে একটি হাদিস উল্লেখ করছি। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান বরকতময় মাস। এ মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ মাসে এমন একটি মহিমান্বিত রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’ (মুসলিম) বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায় রসুল (সা.) চাঁদ দেখে রোজা শুরু করতেন। হাদিসের বর্ণনা থেকে পাওয়া কেউ এসে তাকে সংবাদ দিত তিনি তা ঘোষণা করার অনুমতি দিতেন। তিনি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখেই রোজা ছাড়।’ (বুখারি)

জাঁকজমকহীন অনাড়ম্বর রোজা পালন করতেন রসুল (সা.)। নবীজী (সা.)-এর সাহরি ও ইফতার ছিল সাধারণের চেয়েও সাধারণ। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘রসুল (সা.) কয়েকটি ভিজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভিজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভিজা কিংবা শুকনো খেজুর কোনোটাই না পেলে পানিই হতো তার ইফতার।’ (তিরমিজি) রসুল (সা.) সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করতে পছন্দ করতেন। ইফতারে দেরি করা তিনি পছন্দ করতেন না। তেমনিভাবে রসুল (সা.)-এর সাহরিও ছিল খুব সাধারণ। তিনি (সা.) দেরি করে একেবারে শেষ সময়ে সাহরি খেতেন। সাহরিতে তিনি দুধ ও খেজুর পছন্দ করতেন। এ সম্পর্কে সময়োপযোগী একটি হাদিস উল্লেখ করতে হয়। আহলে সুফফার অন্যতম সদস্য, সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন আজান শুনে, আর এ সময় তার হাতে খাবারের পাত্র থাকে, সে যেন আজানের কারণে খাবার বন্ধ না করে, যতক্ষণ না সে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ না করে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মুয়াজ্জিন এ আজান দিতেন ফজর উদ্ভাসিত হওয়ার পরই। (সুনানে আবু দাউদ, সাওম অধ্যায়, হাদিস নং ২৩৪২; মুসনাদে আহমাদ; ২য় খণ্ড, হাদিস নং ৫১০, সনদ হাসান।)
অন্যান্য সময়ের চেয়ে রমজানে রসুল (সা.)-এর ইবাদতের পরিমাণ বেড়ে যেত। বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি (সা.) প্রবাহিত বাতাসের মতো দান করতেন। রমজানে রসুল (সা.) জিবরাইল (আ.)-কে কোরআন শুনাতেন। আবার জিবরাইল (আ.) হজরত (সা.)-কে কোরআন শুনাতেন। রমজানের রাতে তিনি (সা.) খুব কম সময় বিশ্রাম নিয়ে বাকি সময় নফল নামাজে কাটিয়ে দিতেন। নির্ভরযোগ্য হাদিস থেকে জানা যায়, রসুল (সা.) তিন দিন সাহাবিদের নিয়ে তারাবি পড়েছেন। চতুর্থ দিন থেকে তিনি ঘরে আর সাহাবিরা বাইরে নিজেদের মতো নামাজ পড়তেন। খলিফা ওমর (রা.)-এর সময় জামাতে তারাবি পড়ার প্রচলন হয়। আমাদের দেশে রমজান এলেই তারাবি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। যা মোটেই কাম্য নয়। তারাবি সুন্নত নামাজ। আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হারাম। আমাদের সুবিধামতো আমরা নামাজ পড়ব, অসুবিধা থাকলে না পড়ব। কিন্তু সমাজে ফেতনা সৃষ্টি করার অধিকার আমাদের কারও নেই।
শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা রসুল (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নত ছিল। ইতিকাফে কদরের রাত তালাশ করাই মূল উদ্দেশ্য। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য! শেষ দশকে আমাদের মসজিদগুলো মুসল্লিশূন্য থাকে। রসুল (সা.) শাওয়ালের চাঁদ দেখে রোজা ছাড়তেন।

৬৫ হাজার টাকায় ওমরাহ
                                  

ডিটিভি বাংলা নিউজঃ
প্রত্যেক মুসলমানেরই স্বপ্ন থাকে পবিত্র কাবাঘরে নামাজ আদায় এবং হজ পালনের। ইচ্ছাটা সারা বছর থাকলেও রমজান মাসে ওমরাহ্ পালনে মক্কা-মদিনা নগরীতে ভিড় করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
পবিত্র রমজান মাসে ওমরাহ করা হজ করার সমতুল্য— এই সহি হাদিসের বর্ণনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পৃথিবীর নানাপ্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঢল নামে সৌদি আরবে। পুরো রমজান মাস মক্কা নগরীর পবিত্র কাবাঘরের কাছাকাছি কাটানোর আকাঙ্ক্ষায়ও ছুটে আসেন অনেকে। ওমরাহ বছরের যে কোনো সময় পালন করা জায়েজ। শুধু পাঁচ দিন অর্থাৎ ৯ জিলহজ হতে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত ওমরাহ ইহরাম বাঁধা মাকরুহে তাহরিমি। রমজানের ওমরাহ ওই হজের সমান, যা হুজুর (সা.)-এর সঙ্গে সমাপন করা হয়েছে। ওমরাহ হজ পালনের প্রথম এবং প্রয়োজনীয় বিষয়টি হলো হজ পালনের যাবতীয় খরচ।

পবিত্র ওমরাহ হজ পালনের কয়েকটি প্যাকেজ বা ধাপ রয়েছে। এবারের ওমরাহ পালনে সাতটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে এবং (স্বল্প খরচে) মাত্র ৬৫ হাজার টাকায় পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। তৃতীয় ধাপে রয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। চতুর্থ ধাপে ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়। পঞ্চম ধাপে ১ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকায়। ষষ্ঠ ধাপে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকায় এবং সপ্তম ধাপে ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকায়। এর মধ্যে দুই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে রয়েছে মক্কা ও মদিনায় হেরেম শরিফের কাছে পাঁচ তারকা হোটেলে আবাসন ব্যবস্থা। এ প্যাকেজে আরও থাকছে এমিরেটসের মতো প্রথম সারির বিমানের প্রথম শ্রেণিতে যাতায়াতের ব্যবস্থা। এ ছাড়াও রমজানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি ওমরাহ পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কিন্তু ৬৫ থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ইকনোমি ক্লাসে যাতায়াত করতে হবে ওমরাহ হাজীদের। মাহে রমজানকে সামনে রেখে ওমরাহ পালনে এমন ধরনের কিছু প্যাকেজ হাতে নিয়েছে দেশের কয়েকটি বেসরকারি হজ এজেন্সি। রমজানকে সামনে রেখে এবার ওমরাহ হজ পালনে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনেকে যোগাযোগ শুরু করেছেন হজ এজেন্সিগুলোর সঙ্গে। আবার অনেকে পাসপোর্টসহ নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছেন। আবার অনেকে এমন সুযোগ হাত ছাড়া করতে রাজি নন। এর মধ্যে দেশের কয়েকটি বেসরকারি হজ এজেন্সি মক্কা ও মদিনায় গ্রুপ পাঠাতে প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে ৬৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকায় যারা ওমরাহ পালন করবেন তাদের জন্য আবাসন থাকবে মক্কা ও মদিনার হেরেম শরিফ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মসজিদুল জিনের পাশে। যারা ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ওমরাহ পালন করতে চান তাদের জন্য আবাসন থাকবে মেসফালাহ এলাকার গেন্ডারি রোডে। ওমরাহ গমনেচ্ছু যারা ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় করবেন তাদের জন্য কবুতর মাঠের পাশে। রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি হজ এজেন্সির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এ সব তথ্য।
জানতে চাইলে আল-নাসের এভিয়েশন সার্ভিসের কর্মকতা আবদুর রকিব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আসন্ন রমজানে আমাদের ন্যূনতম প্যাকেজ মূল্য হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু।
সেন্ট্রাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলার্সের মালিক মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী বলেন, আমি আসন্ন রমজানে ওমরাহ প্যাকেজের জন্য নির্ধারণ করেছি মাত্র এক লাখ টাকায়। আর আবাসন থাকবে কবুতর মাঠের পাশে। একইভাবে মদিনায়ও মসজিদে নববীর কাছাকাছি রাখা হয়েছে।
লামিয়া হজ এজেন্সির মালিক ওয়াকিল হোসেন বলেন, আমি ওমরাহ হজের জন্য আসন্ন রমজানে পাঁচ তারকা হোটেলে আবাসন ব্যবস্থাসহ একটি প্যাকেজ রেখেছি। অনেকে নাম লিখেছেন। ওমরাহ যাত্রীদের এমিরেটস বিমানের প্রথম শ্রেণিতে যাতায়াত করাব প্রস্তুতি রয়েছে।

২৫ এতিম রোহিঙ্গা শিশুর দায়িত্ব নিলো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ
                                  

কক্সবাজারের বালুখালি শরণার্থী শিবিরের ২৫ জন এতিম রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষা, খাদ্য ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। আরবি ও কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চেষ্টা চলছে তাদের নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বের করার।

এদের সবাই রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে হারিয়েছে তাদের বাবা, মা কিংবা ভাইকে। দেখেছে চোখের সামনে তাদের স্বজনদের হত্যা করতে। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত।

মোহাম্মদ বেলাল বলেন, আমাদের বাড়ি মিয়ানমারের ক্রাউক প্রাং গ্রামে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাতে আমাদের ঘরে ঢুকে আমার বাবা ও মা দুজনকেই হত্যা করে। আমার বোন এখনো নিখোঁজ।

মোহাম্মদ আমান বলেন, সেনাবাহিনী আমার বাবা-মাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে। সবার সঙ্গে আমিও পালিয়ে এসেছি।

মিয়ানমারের নির্যাতন থেকে মুক্তি মিললেও, নতুন আশ্রয়স্থলে ভয় আর শঙ্কা নিত্যসঙ্গী। একদিকে বন্য হাতি কিংবা বিষাক্ত সাপ, অন্যদিকে রাতের অন্ধকারে পাচার হয়ে যাওয়ায় ভয়। স্বস্তি আর নিশ্চিন্ত জীবন কোথায়।

এমন পরিস্থিতিতে এগিয়ে এলো স্থানীয় একটি মাদ্রাসা। তাদের সাধ্যমত ২৫ শিশুর যাবতীয় দায়িত্ব নিলো মাদ্রাসাটি। একইসঙ্গে এই শিশুদের পরিবারের নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বের করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতেও কাজ করছে বলে জানালো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

রোহিঙ্গা এই শিশুরা তাদের নিজস্ব পরিসর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভিন্ন একটি পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, আরবি ও কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি তাদের সুস্থ- সুন্দর জীবনের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ রফিক বলেন, এদের কারোরই বাবা-মা বেঁচে নেই, তারা সবাই এতিম। এতিমখানার পক্ষ থেকে আমরা তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সেইসঙ্গে এখানে তাদের আরবি ও কোরআন শিক্ষাও দেয়া হয়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধন ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার শিশু শনাক্ত করা হয়েছে। যাদের অধিকাংশের ঠিকানা হয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে।

মক্কী ও মাদানী সুরা কাকে বলে?
                                  

রাসূল (সা.) তাঁর জীবনের একাংশ কাটিয়েছেন মক্কায়, এবং অন্য অংশ কাটিয়েছেন মদীনায়। নবুওতপ্রাপ্তির পর তাঁর মক্কী ও মাদানী উভয় জীবনপর্বেই বিভিন্ন জায়গায় ও সময়ে আল কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। শহরে, গ্রামে, পাহাড়ে, পাহাড়েরর পাদদেশে, উপত্যকায়, রাতে ও দিনে, শীত ও গ্রীষ্মে, ঘরে ও সফরে, যুদ্ধকালীন ও শান্তিকালীন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর কোরআন নাজিল হয়েছে।

নবুয়ত ঊষাকাল মক্কায় যখন কুরআন নাজিল হয়েছে, তখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল অতি অল্প, আর মুশরিকরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। আল কোরআন এ পর্যায়ে মুমিনদের অন্তরাত্মা সংশোধন , তাদের ঈমানে দৃঢ়তা সৃষ্টি, তাদের চিন্তাচেতনা পরিশুদ্ধকরণের জন্য যে পদ্ধতি খেতাব অধিক উপযোগী, তা ব্যবহার করে তাদের খেতাব করেছে। এর বিপরীতে সত্য গ্রহণের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মুশরিকদের আহ্বান জানানো, তাদের বাতিল বিশ্বাসসমূহের অসারতা তুলে ধরা, যুক্তির মাধ্যমে তাদের নানা সন্দেহ ও অলীক ধারণাগুলো রদ করা, পরকালীন আযাব ও ভয়ংকর পরিণতি সম্পর্কে তদের হুঁশিয়ার করে দেয়ার জন্য মুশরিকদের খেতাবের জন্য যে ধরনের পদ্ধতির প্রয়োজন আল কুরআন তার ভাষায় ও বিষয়বস্তু চয়নে তা সর্বশীষ পর্যায়ে ব্যবহার করেছে।

এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরত করে গেলেন মুহাজির ও আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব-বন্ধন কায়েম করলেন, তখন শুরু হলো নতুন এক পর্ব, যা মাদানী পর্ব থেকে ভিন্ন। এবার আল-কোরআনের সম্ভোধনের প্রাথমিক পাত্র হলো মুসলিম সম্প্রদায় যারা স্বাধীন পরিবেশে ইতোমধ্যেই বসবাস করতে শুরু করেছেন, যাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈত জীবনকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালনার জন্য প্রয়োজন রয়েছে সুসংহত বিধানাবলির। অতএব মাদানী কোরআনের খেতাব পদ্ধতি ও বিষয়বস্তুতে আনা হয়েছে পরিবর্তন তাওহীদ, আখেরাত ও রিসালতের প্রতি পূর্বের ন্যায় গুরুত্বারোপ অব্যাহত রেখে।
আল কোরআনের বাণীর মর্ম উদ্ধারের ক্ষেত্রে যেহেতু নুযূলে কুরআনের স্থান ও কাল-বিষয়ক জ্ঞানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, অতএব আলেমগণ বিষয়টিকে খুব গুরুত্বসহ নিয়েছেন এবং জ্ঞানগবেষণার সর্বোচ্চ মানদ- প্রয়োগ করে তাঁরা, কুরানিক খেতাবের নির্দেশ বিষয়ে সঠিক সঠিক জ্ঞান লাভের েেত্র যেহেতু আল কোরআন নাজিল হওয়ার স্থান ও কাল সম্পর্কে ধারণা থাকাটা উপকারি আল কুরআন বিশেষজ্ঞগণ মক্কী ও মাদানী নির্ধারণে অত্যাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁরা প্রতিটি আয়াত ও সূরার ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল আল কুরআন নাজিল হওয়ার ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে তা বোঝার চেষ্টা করা। এ ক্ষেত্রে তাঁরা নাজিল হওয়ার স্থান বা কালের বিচারেই কেবল তাঁরা অনুসন্ধানকর্ম চালাননি, এর সঙ্গে বরং যোগ করেছেন নাজিল হওয়ার স্থান-কাল ও বক্তব্যের ধরণ-ধারণ নিরীা করে দেখার প্রক্রিয়া। মক্কী ও মাদানী নির্ধারণে, বলতে হবে, এটা ছিল জ্ঞান গবেষণাগত নিখুঁত মানদ-ের অনুসরণ।

মক্কী ও মাদানী সুরা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মুফাসসিরগণ বা কোরআন গবেষকগণ যেসব আলোচ্য বিষয়গুলোকে নির্ণিত কেরেছেন সেগুলো হলো- ১- যা মক্কায় নাজিল হয়েছে। ২- যা মদীনায় নাজিল হয়েছে। ৩- যেসব আয়াতের মক্কী ও মাদানী নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতানৈক্য রয়েছে। ৪- মাদানী সূরাসমূহে মক্কী আয়াত। ৫- মক্কী সূরাসমূহে মাদানী আয়াত। ৬-যা মক্কায় নাজিল হয়েছে অথচ তা মাদানীর হুকুমভুক্ত। ৭-যা মদীনায় নাজিল হয়েছে অথচ তা মক্কীর হুকুমভুক্ত। ৮-মাদানী কোরআন-অংশে যা মক্কী কোরআন-অংশের সদৃশ। ৯-মক্কী কোরআন-অংশে যা মাদানী কোরআন-অংশের সদৃশ। ১০- যা মক্কা থেকে মদীনায় বহন করে নেয়া হয়েছে। ১১- যা মদীনা থেকে মক্কায় বহন করে নেয়া হয়েছে। ১২-যা রাতে নাজিল হয়েছে এবং যা দিনে নাজিল হয়েছে। ১৩-যা গ্রীষ্মে এবং যা শীতে নাজিল হয়েছে। ১৪-যা মুকীম অবস্থায় নাজিল হয়েছে এবং যা মুসাফির অবস্থায় নাজিল হয়েছে।

মদীনায় নাজিল হওয়া সূরাসমূহ : এ ক্ষেত্রে অধিক বিশুদ্ধ অভিমত হলো যে মাদানী সূরার সংখ্যা ২০টি। আর তা হলো নিম্নরূপ ১-আল-বাকারা। ২-আলে-ইমরান। ৩-আন-নিসা। ৪-আল-মায়েদা । ৫-আল-আনফাল । ৬-আত-তাওবা । ৭-আন-নূর। ৮-আল-আহযাব। ৯-মুহাম্মদ। ১০- আল-ফাতহ। ১১-আল-হুজুরাত। ১২-আল-হাদীদ। ১৩-আল-মুজাদালা। ১৪-আল-হাশর। ১৫-আল-মুমতাহিনা। ১৬-আল-জুমআ। ১৭-আল-মুনাফিকুন। ১৮-আত-তালাক। ১৯-আত-তাহরীম।২০-আন-নাসর
যেসব সূরার ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে

১-আল-ফাতিহা। ২-আর-রাদ। ৩-আর-রাহমান। ৪-আস-সাফ। ৫-আত-তাগাবুন। ৬-আত-তাৎফীফ। ৭-আল-কাদর। ৮-আল-বাইয়িনাহ। ৯-আয্-যালযালাহ। ১০-আল-ইখলাস। ১১-আল-ফালাক। ১২-আন-নাস
এ ছাড়া অন্য যে-সব সূরা রয়েছে তা মক্কী। মক্কী সূরার সংখ্যা হলো ৮২টি। অতএব আল কুরআনের মোট সূরা সংখ্যা হলো ১১৪টি।

রজব মাসের প্রথম রাতে দোআ কবুল হয়
                                  

আগামী ২০ মার্চ থেকে রজব মাস শুরু। হিজরি মাসগুলোর মধ্যে রজব মাস বিশেষ ও মহিমান্বিত একটি মাস। এ মাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এ মাস আল্লাহ প্রদত্ত চারটি সম্মানিত মাসের একটি। রাসুলুল্লাহ সা. এ মাসকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। ফলে রজবের চাঁদ দেখা গেলেই তিনি কিছু বিশেষ আমল শুরু করতেন।

রজব মাসের প্রথম রাত সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সা. দু’আ কবুল হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘পাঁচটি রাত এমন আছে, যেগুলোতে বান্দার দু’আ আল্লাহ তা’আলা ফিরিয়ে দেন না, অর্থাৎ অবশ্যই কবুল করেন। রাতগুলো হলো, জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শা’বানের ১৫ তারিখের রাত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাত।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৯২৭)

তবে এ দিনগুলোতে বিশেষ কোনো নামাজ বা রোজার মতো কোনো আমল বা ইবাদতের নির্দেশ দেয়া হয়নি। এজন্য এ রাতে নির্দিষ্ট কোন আমল না বানিয়ে নফল সব ধরণের আমলা করাই উত্তম।
রজব মাসের প্রথম রাতে দোআ কবুল হয়

কাকে ঘৃণা করবেন পাপকে না পাপীকে?
                                  

একজন অমুসলিম নেতাকে একটি দল অভিনন্দন জানিয়েছিলো। অমুসলিমকে ঐ দলটির অভিনন্দন করার প্রতি সমর্থন করে একজন ভাই কিছু কথা বলেছিলো সেখানে এক স্থানে তিনি অমুসলিমকে ঘৃণা করার প্রতি ইঙ্গিত করে একটি প্রবচন উল্লেখ করেছিলেন। প্রবচনটি হলো ‘পাপকে ঘৃণা কর পাপীকে নয়’।

উক্তিটি কার তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে, সম্ভবত এটা বিকৃত বাইবেলে আছে। ইসলামে এরকম কথা নেই। আমার মতে কথাটা কিছু ক্ষেত্রে যৌক্তিক আর কিছু ক্ষেত্রে অযৌক্তিক। কারণ সব পাপীর মন একরকম নয়,কথাটার নৈতিক দিক বিশ্লেষণ করলে এর গভীরতম ভাবটা প্রকাশ পায়। পাপকে ঘৃণা করতে হবে, যাতে কেউ পাপ করতে উদ্যত বা উদ্বুদ্ধ না হয়। মানুষ যাতে পাপ বা অপরাধসমূহ কী সে সম্পর্কে শিা গ্রহণ করতে পারে, সে দায়িত্ব রাষ্ট্র ও পরিবারের। পাপকার্য সর্বদাই পরিত্যাজ্য বা বর্জনীয়- এ আদর্শ প্রচারই হলো এ নীতিকথাটির উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবতার নিরীখে ‘পাপীকে ঘৃণা না করা’ কোনো অর্থ বহন করে না। আইনগতভাবে পাপীকেই শাস্তি পেতে হয়, পাপ-এর কোনো সাজা নেই, বা এ কথার কোনো অর্থও নেই। কিন্তু ইসলাম বলে অন্য কথা। যারা বড় বড় পাপ করে তাদের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ঐ প্রবচনটির সম্পূর্ণ বিপরীত।

ইবরাহীম ও তাঁর সাথীদের মধ্যে একটি উত্তম আদর্শ বর্তমান? তিনি তাঁর কওমকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছিলেন : আমরা তোমাদের প্রতি এবং আল্লাহকে ছেড়ে যেসব উপাস্যের উপাসনা তোমরা করে থাক তাদের প্রতি সম্পূর্ণরূপে অসন্তুষ্ট। আমরা তোমাদের অস্বীকার করেছি। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরদিনের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে- যতদিন তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনবে। তবে ইবরাহীমের তার বাপকে একথা বলা (এর অন্তরভুক্ত নয়) “আমি আপনার জন্য অবশ্যই মা প্রার্থনা করবো।

তবে আল্লাহর নিকট থেকে আপনার জন্য নিশ্চিত কোন কিছু অর্জন করে নেয়া আমার আয়ত্বাধীন নয়? তাফসীরের কিতাবে এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে  এর অর্থ হলো, হযরত ইবরাহীম (আ.) তাঁর কাফের ও মুশরিক কওমের প্রতি যে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন এবং পরিষ্কার ভাষায় তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার যে ঘোষণা করেছিলেন তা তোমাদের জন্য অনুসরণীয় । কিন্তু তিনি তাঁর মুশরিক পিতার জন্য আল্লাহর কাছে মা প্রার্থনা করার যে ওয়াদা করেছিলেন এবং কার্যত তা করেছিলেন তার মধ্যে তোমাদের জন্য অনুসরণীয় কিছু নেই। কারণ কাফেরদের সাথে ভালবাসা ও সহানুভূতির সামান্যতম রাখাও ঈমানদারদের জন্য ঠিক নয়।

আজ চাঁদ দেখা কমিটির সভা
                                  

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। ১৪৩৯ হিজরি সনের শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

 
বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেলে ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭ টেলিফোন ও ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে অথবা অন্য কোনো উপায়ে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সারাদেশে মসজিদের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৯
                                  

রাজধানী ঢাকা ‘মসজিদের শহর’ নামে সকলের কাছেই পরিচিত। কিন্তু সারাদেশে মোট কতটি মসজিদ রয়েছে তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জানিয়েছেন, সারাদেশে মসজিদের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৯টি।

সোমবার ২০১৮ সংসদে সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. নুরুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ধর্ম মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি অর্থবছরে নির্ধারিত আবেদন ফরমের ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে মসজিদের অনুদান মঞ্জুর করা হয়।এর অংশ হিসেবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩৫৬টির অনুকূলে ১১ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩৯৯ মসজিদের জন্য ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়। তবে দেশের সকল মসজিদে সরকারি অনুদান সমভাবে পৌঁছানোর কোন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নেই।’

সরকারি দলের সদস্য মো. আবদুল মতিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত চার বছরে ৯৯৯ জন হজ প্রতিনিধির পেছনে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ২৪৫ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি হজ যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা দেখাশুনাসহ হজ ব্যবস্থাপনার জরুরি দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন দলে (হজ প্রতিনিধি দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল এবং হজ চিকিৎসক কারিগরি দল) অন্তর্ভুক্ত করে ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তর, বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ সৌদি আরবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাদের পেছনে ওই অর্থ ব্যয় হয়।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সরকারি খরচে কোন হজযাত্রী পাঠানো হয়নি। মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে সরকারি খরচে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হজে পাঠানো হচ্ছে।

এ হিসেবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১২৫ জনের পেছনে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৩৬ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৬৬ জনের পেছনে ২৯ কোটি,

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৮৮ জনের পেছনে সাড়ে ২৯ কোটি এবং ২০১৮ অর্থবছরে ৩২০জনের পেছনে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে সাড়ে ৩৩ কোটিসহ মোট ২৪৫ কোটি টাকা।

মক্কা মসজিদে শিয়া নেতা হাসান রোহানিকে স্বাগত জানালো ভারতের সুন্নিরা
                                  
ভারত সফররত ইরানি প্রেসিডেন্ট ও শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা হাসান রোহানিকে হায়দ্রাবাদের কুতুব শাহী আমলে নির্মিত মসজিদ মক্কায় স্বাগতম জানালো দেশটির সুন্নি সম্প্রদায়ের মুসুল্লিরা। শুক্রবার তিনি মক্কা মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেছেন। যদিও এটি সুন্নিদের মসজিদ। কিন্তু তারপরও এই ঐতিহাসিক মসজিদের দরোজা খুলে দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে এই শিয়া রাজনৈতিক নেতাকে।
 
হায়দ্রাবাদ শহর দিয়ে ভারত সফর শুরু করার মধ্য দিয়ে এই শহরের সঙ্গে ইরানের ৫০০ বছরের সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেছেন হাসান রোহানি। নামাজ আদায়ের পর উপস্থিত মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি শিয়া ও সুন্নিপন্থি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। রুহানি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাসের জন্য ভারতের প্রশংসা করেন। 
তিনি বৃহস্পতিবার হায়দ্রাবাদে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ইসলামি বিশ্বের জন্য সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েই কিন্তু ভারতকে গড়ে তুলছে। তিনি বিভক্তির জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করেন। বিবিসি।
 
এতিমের ভরণপোষণকারী জান্নাতে নবীজির সবচেয়ে কাছে থাকবে
                                  

আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদের প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন, তারা আল্লাহর ভালবাসায় মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীদেরকে খাবার দান করে। (এবং তাদেরকে বলে,) আমরা তো তোমাদেরকে খাওয়াই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। আমরা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও না।-সূরা দাহর (৯৮) : ৮-৯

ইতিম, মিসকীন ও বিধবাদের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করা হাদীসের ভাষায় জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ এবং দিনের বেলায় রোযা রাখা ও রাত্রিবেলায় নফল নামায আদায়ের সমতুল্য।

এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি স্বামীহীন নারী ও মিসকীনদের সহযোগিতার জন্য পরিশ্রম করে সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর মতো এবং সেই ব্যক্তির সমতুল্য যে দিনের বেলায় রোযা রাখে এবং রাত্রিবেলায় নফল নামায আদায় করে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৩৫৩, ৬০০৬-৭

হাদীসে এসেছে, যে নিরবচ্ছিন্ন রোযা রাখে এবং নিরলস নফল নামায পড়ে তার সমতুল্য।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৯৮২

অন্য এক হাদীসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি এবং ইয়াতীমের ভরণপোষণকারী জান্নাতে এভাবেই থাকব। এ কথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলী একত্র করে ইঙ্গিত করলেন।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬০০৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৯৮৩

মেরিকে অবমাননায় তিন মুসলিমকে কুরআন মুখস্তের শাস্তি খ্রিস্টান বিচারকের
                                  

যীশু খ্রিষ্টের মা মাদার মেরিকে অবমাননায় তিন মুসলিম যুবককের কারাদ- না দিয়ে কুরআনের একটি অংশ মুখস্ত করার শাস্তি দিলেন লেবাননের একজন খ্রীস্টান বিচারক। ফলে তার এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সা’দ হারিরি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। খবর: আল আরাবিয়া

ওই খ্রিস্টান বিচারকের নাম জোসলিন মাতা। তিনি দেশটির তুরাবলুস শহরের একজন বিচারক। তার এ রায়কে খ্রীস্টান ও মুসলিমদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরিতে যুগান্তকারী ভূমিকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিচারক জোসলিন মাতা রায় ঘোষণার সময় বলেন, ‘আইন শুধু একটি জেলখানা নয়, একটি পাঠশালাও।’

আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ম অবমাননার দায়ে ওই তিন মুসলিম যুকবকে আদালতে তোলার পর বিচারক বলেন, ‘ওই তিন যুবককে কুরআনুল কারীমের সুরা আল ইমরানের ৩৩ নাম্বার আয়াত থেকে ৫৯ নাম্বার আয়াত পর্যন্ত মুখস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যেসব আয়াতে যীশু খ্রিস্ট ও মাদার মেরির কথা আলোচনা করা হয়েছে। যাতে করে তারা ইসলামের সহনশীলতা ও মাদার মেরির প্রতি ভালোবসা শিখতে পারে।’ তিনি এসময় এসব আয়াত মুখস্ত করার আগ পর্যন্ত তাদের জেল থেকে মুক্তি না দেওয়ারও নির্দেশ দেন’।

প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি তার টুইটারে জোসলিন মাতার পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, এ রায় মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের শিক্ষা দেয়।

দেশটির দুর্নীতি দমনমন্ত্রী নিকোলাস তুনিও জোসলিন মাতার প্রশংসা করে বলেন, তার এ সিদ্ধান্ত সামাজিক সমস্যা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার সমাধান করার জন্য উদ্ভাবনী ভূমিকা রাখবে। সূত্র: আল আরাবিয়া

বাবার খুশিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি
                                  

 ‘বাবা’, ‘আব্বু’, ‘আব্বা’ যে নামেই ডাকি না কেন একটি পরিবারে সর্বোচ্চ আস্থার নাম এই বাবা। বাবাহীন একটি পরিবার এবং বাবার ছায়াঘেরা একটি পরিবারের মাঝে মোটা দাগের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। যার বাবা নেই কিংবা যে পরিবারে বাবার কোনো ছায়া নেই, তারাই কেবল বাবার প্রকৃত অভাব অনুধাবন করতে সক্ষম।

ইসলাম ধর্ম আল্লাহ মহানের ইবাদত বন্দেগি পালনের পর যে কয়টি বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করেছে তার মাঝে অন্যতম একটি হলো পিতা ও মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করা, তাদের হক বা অধিকার সঠিকভাবে আদায় করা এবং তাদের সাথে কোনো প্রকারের খারাপ ব্যবহার বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করা।
পবিত্র কুরআনুল কারিমের অসংখ্য আয়াতে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ মহান ইরশাদ করেন, তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত কর না এবং বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন; তবে তাঁদের ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদের ধমক দিও না এবং তাদের সঙ্গে বল শিষ্টাচারপূর্ণ কথা। (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৩) মাতা বা মায়ের পাশাপাশি ইসলামে বাবা বা পিতার অবস্থানকে খুব গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। একটি হাদিস রাসূল (সা.) বলেছেন, বাবা বা পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ মহান খুশি হন এবং পিতা বা বাবার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহ মহান অসন্তুষ্ট হন। (আল-হাদিস) এই একটি হাদিসের মর্মকথাই ইসলাম ধর্মে বাবার মর্যাদা বা তার অবস্থানগত গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য যথেষ্ঠ। মানব জাতির ¯্রষ্টা আল্লাহ মহানের সন্তুষ্টি হওয়াকে বাবা বা পিতার সন্তুষ্টির সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, একজন মুসলিমের জন্য এর চেয়ে বড় সতর্কবার্তা আর কী হতে পারে?
এছাড়া পিতার মর্যাদা ও গুরুত্বের আলোচনা প্রসঙ্গে আরো একটি বিখ্যাত হাদিস রয়েছে। যেখানে পিতা ও মাতা উভয়ের কথাই আলোচিত হয়েছে দীর্ঘ একটি হাদিসে। হাদিসটির সংক্ষিপ্ত রূপ হলো- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুল (সা.) জুমআর নামাজের আগে মিম্বরের প্রথম ধাপে উঠার সময় বললেন, আমিন; দ্বিতীয় ধাপে উঠার সময় বললেন, আমিন এবং তৃতীয় ধাপে উঠার সময় বললেন, আমিন।

সাহাবায়ে কেরাম রাসূলের (সা.) কাছে এভাবে তিনবার আমিন বলার কারণ জানতে চাইলেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘এই মাত্র হজরত জিবরাইল (আ.) আমাকে তিনটি দোআ শোনালেন এবং আমি তিনটি দোআতে তিনবার আমিন বলেছি। এক. যে ব্যক্তি রমজান পেলে কিন্তু তার গোনাহ মাফ করাতে পারলো না, সে ধ্বংস হোক; আমি বললাম, ‘আমিন’। দুই. সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যার সামনে আমার নাম উচ্চারণ করা হলো কিন্তু সে দরূদ পড়লো না, আমি বললাম, ‘আমিন’। তিন. হজরত জিবরাইল বললো, সেই ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে তার বাবা-মা উভয়কে পেল অথবা একজনকে পেল কিন্তু তাদের খেদমতে করার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য অর্জন করতে সক্ষম হলো না। আমি বললাম, ‘আমিন’। কত বড় সতর্কতার কথা এই হাদিসটিতে উচ্চারিত হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) যে দোআতে ‘আমিন’ বলেছেন সে দোআ কবুল হবে না এমনটা ভাবাও উচিত না। সুতরাং একজন মুসলিম হিসেবে, আল্লাহর রাসূলের (সা.) একজন অনুসারী হিসেবে পিতা বা বাবার সঠিক গুরুত্ব অনুধাবন করে তাদের সঠিক খেদমত করা আমাদের একান্ত অবশ্য কর্তব্য।

পুরুষদের এক স্ত্রী’তেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত: সৌদি আলেম
                                  

পুরুষদের এক স্ত্রী’তেই সন্তুষ্ট থাকার পরামর্শ দিলেন সৌদি আরবের বিখ্যাত ধর্মপ্রচারক ও আলেম আয়েদ আল কারনি। তিনি সৌদি পুরুষদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘এক বিয়েতেই সন্তুষ্ট থাকো। একজনের পর অন্য কোনও নারীকে আর বিয়ে করো না।’

সৌদি টেলিভিশন ‘মোবাশারা’র একটি টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। আয়েদ আল করনি বলেন, ‘আমি পুরুষদের এক স্ত্রীর সঙ্গে সন্তুষ্ট থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে কেউ যদি একাধিক বিয়ে করতে চায় আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন। কিন্তু এটি তাদের উভয়ের মাঝে বোঝাপড়া ও সমতা রক্ষায় কষ্টকর হবে।’ তবে বহুবিবাহ নিয়ে এটি তার ব্যক্তিগত মন্তব্য বলে তিনি জানান। আয়েদ আল কারনি আরও বলেন, তাঁর লক্ষ্য কুরআন-হাদীসের আলোকে মানুষের জীবনকে উন্নত করা।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবসহ আরববিশ্বে বহুবিবাহের প্রচলন রয়েছে। বেশ আগ্রহের সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্যের পুরুষরা একাধিক বিয়ে করে থাকেন। বিষয়টি সামাজিকভাবেও দোষণীয় নয়। শতাব্দির পর শতাব্দি এ প্রথা চালু রয়েছে। তবে ইসলাম এসে স্ত্রীদের মাঝে সমান অধিকারের ভিত্তিতে একাধিক বিয়ের অনুমোদন দেয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যাও বেঁধে দেয়। সূত্র: আল আরাবিয়া

শয়তানের সবচেয়ে প্রিয় কাজ
                                  

পৃথিবীর যত অন্যায় কাজ আছে, যত খারাবি আছে যত অনিষ্ট সাধনের কাজ আছে সবই শয়তানের প্রিয়। কিন্তু এসব খারাবিতেও শয়তান সন্তুষ্ট নয়। সব ধরণের খারাবির মধ্যে শয়তানের কাছে যে কাজটি সবচেয়ে কাছে সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনমালিন্য সৃষ্টি করে বিভেদ সৃষ্টি করা। সর্বশেষ বিচ্ছিন্ন করা। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইবলীস পানির উপর তার আরশ স্থাপন করে তার বাহিনী প্রেরণ করে। তাদের মধ্যে তার সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত সেই যে সর্বাধিক ফিতনা সৃষ্টিকারী। তাদের একজন এসে বলে, আমি অমুক অমুক কাজ করেছি।
সে বলে, তুমি কিছুই করনি। অতঃপর অন্যজন এসে বলে, অমুকের সাথে আমি সকল প্রকার ধোঁকার আচরণই করেছি। এমনকি তার থেকে তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন না করা পর্যন্ত আমি তাকে ছেড়ে দেই নি। অতঃপর শয়তান তাকে তার নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে হ্যাঁ, তুমি একটি বড় কাজ করেছ। বর্ণনাকারী আ’মাশ বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেনঃ অতঃপর শয়তান তাকে তার বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।মুসলিম হাদীস নং ৬৮৪৬

অন্য আরেক হাদীসে আছে, হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শয়তান তার সৈন্য বাহিনীকে প্রেরণ করতঃ লোকদেরকে ফিতনায় লিপ্ত করে। তাদের মধ্যে সে-ই তার নিকট সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী যে অধিক ফিতনা সৃষ্টিকারী। মুসলিম হাদীস নং ৬৮৪৭

সৌদির জবাবদিহিতা ও মুসলিম বিশ্ব
                                  

জহির উদ্দিন বাবর : আজ মুসলিম বিশ্বের যে অবস্থা তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। উনিশ শতকে যেসব বিপর্যয় মুসলমানদের ওপর পতিত হয়েছে তাদের শাসকদের কারণে তা দিন দিন বাড়ছে এবং গভীর হচ্ছে।

বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা সৌদি আরবের। তাদের রাজনীতি দ্বিমুখী এবং তারা হারামাইনকে ‘বাহন’ বানিয়ে রেখেছে। সমস্ত মুসলমানকে এই কথা বলে দেয়া উচিত যে, জাজিরাতুল আরব হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতের হারাম শরিফ।

নবী করিম সা. তাঁর ইন্তেকালের আগে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই ওসিয়ত করেছেন, জাজিরাতুল আরব থেকে মুশরিক ও ইহুদিদের বের করে দিও। হজরত ওমর ফারুক রা. রাসুল সা.-এর ওসিয়তের ওপর আমল করতে গিয়ে জাজিরাতুল আরবকে পবিত্র করেছিলেন। পরে তেরশ বছরের শাসনকালে কারও এই হিম্মত হয়নি যে, জাজিরাতুল আরবে তাদের পুনর্বাসন করবে।

গোটা ইতিহাসে প্রথমবার যে শাসন গোপনে জাজিরাতুল আরবকে ব্রিটেন ও আমেরিকার কাছে সমর্পণ করেছিল, তাদের সঙ্গে গোপনে চুক্তি করেছিল; তাদের সামরিক বাহিনীকে এখানে ঠাঁই করে দিয়েছিল, যারা জাজিরাতুল আরবের সম্পদের বড় অংশটি ভোগ করছে, সেই শাসক ছিল আলে সৌদের।

আলে সৌদ মুসলিম মিল্লাতের এই হারাম শরিফ ও মুসলিম উম্মাহর ভাণ্ডারকে অবৈধভাবে আমির ও শাহজাদাদের ভোগ-বিলাসের জন্য ব্যবহার করেছে। যা আমাদের চেয়ে বেশি জানে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সরকার এবং সেসব দেশের জনগণ।

যেকোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা প্রধান নির্বাহীর একটি বেতনভাতা থাকে। তিনি চাইলেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিজের ইচ্ছামতো ভোগ করতে পারেন না। আর ইসলামে তো এর অনুমতি কোনোভাবেই দেয়নি।

ইসলাম এই শিক্ষা দিয়েছে, হজরত ওমর রা. মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন আর একজন সাধারণ মুসল্লি দাঁড়িয়ে তাঁকে পোশাকের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন। ইসলামের এসব দৃষ্টান্ত সজীব রাখা জরুরি।

আজকে সৌদি আরবের কার্যকরী শাসক মুহাম্মদ বিন সালমান এবং তার বাবা শাহ সালমান সব সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। তাদের সম্পদের দাস্তান আলিফ লায়লা এবং জাহেলি যুগের ইরান ও রোম শাসকদেরও ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই ভোগবিলাস এবং স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের ব্যাপারে গোটা মুসলিম বিশ্ব তাদের প্রশ্ন করার অধিকার রাখে।

দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের সফর বিশেষ করে মরক্কো ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক সফরে তাদের অপব্যয়ের চিত্র প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রকাশ হয়েছে।

বর্তমানে জাজিরাতুল আরবকে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কোলে সমর্পণের যে লজ্জাজনক খেলা চলছে তা আর কোনো গোপন বিষয় নয়। দুনিয়ার সবচেয়ে অসভ্য ও নির্লজ্জ শাসক ডোনাল্ট ট্রাম্পকে তারা রিয়াদে আমন্ত্রণ জানিয়ে মুসলমানদের অপদস্থ করেছে। মুসলিমদের নিদর্শনকে তার (ট্রাম্প) দ্বারা পদদলন করা হয়েছে।

বর্বর ইসরাইলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হামাসকে তারা সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইসরাইলে গোপনে সফর করেছে। ‘আল কুদস’ শহরকে ইসরাইলের রাজধানী করতে ফিলিস্তিনিদের অন্য কোনো দেশ অথবা দ্বীপে পুনর্বাসনের গোপন প্ল্যান করেছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ডেকে ধমক দিয়েছে।

নিজ দেশের (সৌদি আরব) খ্যাতিমান আলেমদের গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির তকমা লাগিয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লুকোচুরি খেলেছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে ধনাঢ্যদের সম্পদের অংশ নিয়ে তাদের দায়মুক্তি দিয়েছে।

সবশেষ খ্রিস্টবাদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের গভীরতা এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, যিশুখ্রিস্টের ছোট্ট একটি পেন্টিং ৪৫০ মিলিয়ন ডলারে কিনতে হয়েছে। এমনিতেই নবীদের ছবি ধারণ করা হারাম। আর ঈসা আ. এর ভুয়া ছবি কেনার জন্য একটি ছোটখাট দেশের মোট বাজেটের সমান অর্থ ব্যয় করেছে সৌদি আরব।

অথচ ইয়েমেন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের বোমায় ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে। তাদের দুর্ভিক্ষে ফেলা হচ্ছে। ৬৫টি দেশের সঙ্গে মিলে তিন বছর ধরে সিরিয়া ও ইরাকের লাখ লাখ মানুষকে ক্ষুধার্ত রেখে মৃত্যু উপত্যকায় ঠেলে দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনের ইতিহাস রক্তে রঞ্জিত। কিন্তু ইহুদিদের গোপন বন্ধু (সৌদি আরব) কখনও তাদের সহযোগিতা করেনি। অভিশপ্ত ইহুদিদের সঙ্গে কখনও যুদ্ধ করেনি। বরং তাদের বিরুদ্ধে কুরআনের যে আয়াত আছে তা না পড়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে স্কুল-কলেজে।

তাদের ‘মুরব্বি’ ট্রাম্প যখন জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দিলো তখনও তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই তাদের মুখে। এমনকি এই ঘোষণার দুই তিন দিন পর জুমার খুতবায় ইমামদের এ ব্যাপারে কিছু বলতে পর্যন্ত দেয়নি।

মুসলমানদের জানা উচিত, হারামাইনের মিম্বর আজ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর জন্য নয়। বরং সৌদি শাসকদের অশুভ রাজনীতির প্রতি সমর্থন যোগানোর জন্য। সৌদি শাসক আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন আলেমদের মুখে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আর আত্মমর্যাদাহীন শাসকপূজারি আলেমদের বসানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদে।

এই অবস্থায় সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য উচিত হলো তাদের মুখোশ বিশ্ববাসীর সামনে ফাঁস করে দেয়া। আর হারামাইন শরিফাইন ও জাজিরাতুল আরবের ব্যবস্থাপনাকে মুসলিম বিশ্বের কাছে সম্মিলিতভাবে সমর্পণের জন্য দাবি জানানো।

তুরস্ক, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এসব দেশের যৌথ সংস্থার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

এই প্রোপাগাণ্ডায় বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই যে, ইরানের শিয়াদের কর্তৃত্ব হারামাইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এটা নির্জলা মিথ্যা। তারা তো সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেন শিয়াদের কাছে সোপর্দ করে রেখেছে। আগেও করেছে এখনও করছে।

কিছু নির্বোধ তাদের (সৌদি) পক্ষে সুর উঁচু করছে। এর দ্বারা মূলত তারা মুসলমানদের চোখে ধুলো দেয়ার চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে গোটা মুসলিম বিশ্ব তুরস্কের সঙ্গে। তুরস্কের কাছে হারামাইন শরিফাইনের সম্মান সবচেয়ে বেশি। এজন্য বিশ্ব মুসলিমদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা উচিত, হারামাইনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আবার তুর্কিদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।

আর ইহুদি-খ্রিস্টানদের সঙ্গে চুক্তিকারী আলে সৌদকে বরখাস্ত করা হোক। এবার আমাদের দেখা উচিত কত মুসলমান এই দাবির পক্ষে একমত। এটি মূলত একটি বৈশ্বিক গণভোট। এর দ্বারাই মুসলিমদের ভাগ্য নির্ধারণ হওয়া চাই। সূত্র : আওয়ার ইসলাম
সাইয়েদ মুহাম্মদ সালমান হোসাইনী নদভী
অনুবাদ: জহির উদ্দিন বাবর

মানবজীবনে রাসুলুল্লাহ (সা.) আদর্শের প্রয়োজনীয়তা
                                  

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মানবজাতির কল্যাণ রয়েছে। তাই আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবজাতিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রাসুল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মান, জেনে রাখ আসমানসমূহে ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছুই আল্লাহর। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, প্রাজ্ঞ।’
(সুরা নিসা: ১৭৹)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণের ফযীলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে অনুসরণ করে চলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ভালোবাসেন এবং তার গোনাহসমূহ মাফ করে দেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, (হে নবী!) ‘আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদের ভালবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল দয়ালু।’
(সুরা আলি ইমরান: ৩১) একমাত্র আল্লাহর হুকুম পালন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণের মাধ্যমে চিরস্থায়ী সুখময় জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করা সম্ভব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ মত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে ¯্রােতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।’ (সুরা নিসা: ১৩) রাসুলুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণের মাধ্যমে মূলত আল্লাহ তায়ালার হুকুম মেনে চলা হয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণ করার অর্থ আল্লাহর হুকুম মান্য করা। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণ না করার অর্থ আল্লাহর হুকুম অমান্য করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে লোক রাসুলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে নবী) তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।’ (সুরা নিসা: ৮৹)

সত্য পথ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরও যারা রাসুলুল্লাহ (সা) এর বিরোধিতা করে বিধর্মীদের অনুসরণ করে তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে কেউ রাসুলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান।’
(সুরা নিসা: ১১৫) এ দুনিয়াতে যারা রাসুলুল্লাহ (সা) এর অনুসরণ করে না কিয়ামতের দিন তাদের আফসোসের কোনো সীমা থাকবে না। তারা সেদিন তাদের আঙ্গুল কামড়াতে থাকবে আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণ না করার কারণে আফসোস করতে থাকবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, জালেম সেদিন আপন দুটি হাত দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের পথ অবলম্বন করতাম।’ (সুরা ফুরকান: ২৭)

এমনকি তারা যখন নিজেদের ভযাবহ পরিণতি চোখের সামনে দেখতে পারবে তখন যমীনের সাথে মিশে যাওয়ার আকাঙ্খা প্রকাশ করতে থাকবে৷ সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফির হয়েছিল এবং রাসুলের নাফরমানি করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু তারা আল্লাহর নিকট কোনো বিষয় গোপন করতে পারবে না।’ (সুরা নিসা: ৪২) লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।


   Page 1 of 5
     ইসলাম
নবীজি যেভাবে রোজা রাখতেন
.............................................................................................
৬৫ হাজার টাকায় ওমরাহ
.............................................................................................
২৫ এতিম রোহিঙ্গা শিশুর দায়িত্ব নিলো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ
.............................................................................................
মক্কী ও মাদানী সুরা কাকে বলে?
.............................................................................................
রজব মাসের প্রথম রাতে দোআ কবুল হয়
.............................................................................................
কাকে ঘৃণা করবেন পাপকে না পাপীকে?
.............................................................................................
আজ চাঁদ দেখা কমিটির সভা
.............................................................................................
সারাদেশে মসজিদের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৯
.............................................................................................
মক্কা মসজিদে শিয়া নেতা হাসান রোহানিকে স্বাগত জানালো ভারতের সুন্নিরা
.............................................................................................
এতিমের ভরণপোষণকারী জান্নাতে নবীজির সবচেয়ে কাছে থাকবে
.............................................................................................
মেরিকে অবমাননায় তিন মুসলিমকে কুরআন মুখস্তের শাস্তি খ্রিস্টান বিচারকের
.............................................................................................
বাবার খুশিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি
.............................................................................................
পুরুষদের এক স্ত্রী’তেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত: সৌদি আলেম
.............................................................................................
শয়তানের সবচেয়ে প্রিয় কাজ
.............................................................................................
সৌদির জবাবদিহিতা ও মুসলিম বিশ্ব
.............................................................................................
মানবজীবনে রাসুলুল্লাহ (সা.) আদর্শের প্রয়োজনীয়তা
.............................................................................................
আপনার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হোন
.............................................................................................
‘বিশ্বশান্তির পক্ষে ইসলাম ধর্ম বড়ই বিপজ্জনক’
.............................................................................................
অজুতে আল্লাহর সন্তুষ্টি
.............................................................................................
শিশুদের প্রতি মহানবী (সা.) এর মমতা
.............................................................................................
ইসলামে পবিত্রতার তাৎপর্য
.............................................................................................
তাবলীগ জামায়াতে আলেমদের ব্যাপক অংশ গ্রহণ প্রয়োজন
.............................................................................................
শ্রেণি ও বর্ণবৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মহানবী (সা.)
.............................................................................................
দুনিয়া ও আখেরাতের সবচেয়ে সুখের জায়গা
.............................................................................................
কসমের কাফফারা কী আবশ্যক?
.............................................................................................
মদিনার আনসারদের প্রতি ভালোবাসা ইমানের দাবি
.............................................................................................
খেজুর গর্ভবতীদের জন্য আয়রন ক্যাপসুল
.............................................................................................
গরুর গোস্ত সম্পর্কে যা বলেছেন মোহাম্মদ (স.)
.............................................................................................
মৃত্যুকালে যা বলে গেলেন বিশ্বনবী সা. ও দুই খলিফা
.............................................................................................
আদমকে শিক্ষাদান এবং ফেরেশতাদের অপারগতার স্বীকৃতি
.............................................................................................
মদ পান সম্পর্কে কুরআনের সতর্কতা
.............................................................................................
উম্মুল মুমিনীন হজরত সাওদা বিনতে জামআ (রা.) এর জীবনগল্প
.............................................................................................
নবীজির প্রতি দুরূদ ও সালাম পেশ করা ঈমানের দাবি
.............................................................................................
ইসলামে পুরুষের তুলনায় নারীর সম্মান !
.............................................................................................
কাবা সম্পর্কে অজানা ১০টি তথ্য
.............................................................................................
যে দুয়া পড়ে রাসূল সা. ঘুমাতেন
.............................................................................................
কন্যা সন্তানদের বাবা মার জন্য জান্নাত অবধারিত!
.............................................................................................
বিয়ের সর্বাধিক উপযুক্ত নারী কে?
.............................................................................................
আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে
.............................................................................................
মুমিনের গুণ বর্ণনায় যেভাবে মুক্ত হলেন ক্রীতদাসী
.............................................................................................
গীবতের ভয়াবহ পরিণাম
.............................................................................................
বেশি লোক একসঙ্গে নামাজ পড়ার ফজিলত
.............................................................................................
কন্যা সন্তান লালন পালনের জন্য ছয়টি পরামর্শ[
.............................................................................................
জাযাকাল্লাহু খাইরান’ বলায় যে কল্যাণ অর্জিত হয়
.............................................................................................
মহররম মাস ও আশুরার ফজিলত
.............................................................................................
আরাকানের ইতিহাস
.............................................................................................
জামা-কাপড় পরিধানে যে দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
যৌবনের ইবাদত যে কারণে মর্যাদাবান
.............................................................................................
১৫ হাজার ৪১৯ হাজি দেশে ফিরেছেন
.............................................................................................
আল্লাহর কাছে সব সময় যে দোয়া করা জরুরি
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
চেয়ারম্যান: এস.এইচ. শিবলী ।
সম্পাদক, প্রকাশক: জাকির এইচ. তালুকদার ।
হেড অফিস: ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি নং ২, রোড নং ৩, সাদেক হোসেন খোকা রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা ১০০০ ।
ফোন: 01558011275, 02-৪৭১২২৮২৯, ই-মেইল: dtvbanglahr@gmail.com
   All Right Reserved By www.dtvbangla.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale