প্রকাশ :: ... | ... | ...

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে আত্রাইয়ের নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন


সংযুক্ত ছবি

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: গত ৮ আগস্ট ২০২৬ সৌদি আরবের রিয়াদ মহানগরে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আত্রাইয়ের নিহত ১১ জনের মধ্যে অবশিষ্ট ৪ জনের লাশ গতকাল শনিবার আত্রাইয়ে নিজ নিজ বাড়ি পৌঁছেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এ চার হতভাগার লাশ গ্রহনের জন্য তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বজনরা ঢাকায় পৌঁছান এবং গতকাল বিকেলে লাশের গাড়ি নিয়ে তারা আত্রাইয়ে আসেন। লাশগুলো নিজ নিজ বাড়ি পৌঁছার পর এলাকা জুড়ে শুরু হয় শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। ​জানা যায়, গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বিকেল ৩ টায় সৌদি আরবের রিয়াদ মহানগরীর শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় বাংলাদেশি কর্মীদের পরিচালনাধীন একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাদের মধ্যে ১১ জনই ছিলেন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ৭ জনের লাশ গত ২৮ আগস্ট আত্রাইয়ে পৌঁছায়। অন্য চার জনের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে লাশ নির্ণয় করতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের লাশ গতকাল শনিবার নিজ নিজ বাড়ি পৌঁছে। যে চার জনের লাশ গতকাল এসেছে তারা হলেন উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৫), মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাছ প্রামাণিকের ছেলে মিনহাজ প্রামাণিক (৩০), মাধবপুর গ্রামের মজনুর ছেলে মাসিদুল সরদার সজীব (২৫) ও সাধননগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী (২৬)। এদিকে গতকাল বিকেলে লাশগুলো নিজ নিজ বাড়ি পৌঁছার পর সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। লাশের স্বজনরা শুধুই বিলাপ করতে থাকেন এবং নানা আবেগের কথা ব্যক্ত করতে থাকেন। পরে প্রত্যেকের এলাকায় জানাজা নামাজ শেষে লাশগুলো দাফন করা হয়। ​ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভর মা হেলেনা বেগম বলেন, তার ছেলের মৃত্যুর আগের শুক্রবার দুপুরের দিকে ছেলের সাথে তার কথা হয়। বিশেষ করে সংসারের ঋণের টাকা পরিশোধের বিষয় কথা হয়। তবে সেই ঋণ আর পরিশোধ করা সম্ভব হলো না। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই আমার ছেলের মর্মান্তিক বিদায় মেনে নেওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। আমাদের এ ঋণ পরিশোধ ও সংসারের অভাব মোচনে প্রধান মন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন তিনি। ​আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমার উপজেলার ১১ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে হারিয়ে আমরা গভীর শোকাহত। পূর্বে আসা ৭ জনের লাশের জানাজা আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একত্রে করেছিলাম। এ চার জনের লাশও ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে সব রকমের সহযোগিতা করা হয়েছে। আমরা সাধ্যমত এসব পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করেছি এবং আরও সহযোগিতা করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে।