প্রকাশ :: ... | ... | ...

শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল


সংযুক্ত ছবি

সংগৃহীত

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। শপথ শেষে তিনি শপথনামায় স্বাক্ষর করেন এবং তা স্পিকার কর্তৃক সত্যায়িত হয়। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেন। একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের মহাসচিব পদে অধিষ্ঠিত থাকার রেকর্ড। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (ইপিএসইউ) সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখার পর ১৯৭২ সালে তিনি শিক্ষকতায় যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি (পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক) ছেড়ে রাজনীতিতে সক্রীয় হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার নির্বাচিত রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগদান করে দীর্ঘদিন দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে শপথ নেননি।