প্রকাশ :: ... | ... | ...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে জোরালো আলোচনা


সংযুক্ত ছবি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন ও সরকারি সূত্রে এমন ইঙ্গিত মিলেছে। গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তিনি পদে বহাল ছিলেন। বর্তমানে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও তার পদত্যাগ বা অপসারণ নিয়ে আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি সম্মানজনক বিদায় নিয়ে চলে যেতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে তার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। চলতি বছর ১২ মে যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হওয়ায় সফলভাবে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয় । সূত্র বলছে, সম্প্রতি সিএমএইচে এমআরআই-সহ নানা পরীক্ষা শেষে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানান, “আপনারা বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছেন। এখন আপনারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন, এটাই স্বাভাবিক”। সরকার ও বিএনপি সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পদত্যাগের জন্য ইতোমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি লন্ডনে চিকিৎসা চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার টেলিফোনে কথোপকথনের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসার পর এই সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত হয়েছে বলে খবর । তবে বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, বিষয়টি আরও জটিল। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ছড়ানোর পাশাপাশি নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়েও জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় আছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তবে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ শীর্ষ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের নামও আলোচনায় এসেছে। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। পদত্যাগপত্র জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তিনি অনুপস্থিত, অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে । সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। যদিও বঙ্গভবন ও সরকারিভাবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা এখন শীর্ষ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।