টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই, কুশিয়ারাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার উর্ধ্বে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁধ উপচে ও ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার শহরতলির দানিয়ালপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এদিকে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং লঘুচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও অন্তত দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর জেরে উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। উজানে ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং লঘুচাপের প্রভাবে আগামী এক থেকে দুই দিন সারা দেশেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকার মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় সেখানে ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়েছে বহুগুণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে ভারতের মধ্যপ্রদেশের উত্তর-পশ্চিম ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪২ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ১৫৪ সেন্টিমিটার এবং চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মনু নদীর পানি মনু রেলসেতু ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার করে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। ধলাই নদী কমলগঞ্জ পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদী হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ২২০ সেন্টিমিটার ও হবিগঞ্জ পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের আমবাগান স্টেশনে সর্বোচ্চ ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ৩০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ২৪৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২৩৫ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ১৪২ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৩০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৫ মিলিমিটার এবং তেঁতুলিয়ায় ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী রোববার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও এরপর ধীরে ধীরে তা কমতে পারে। তবে আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।