প্রকাশ :: ... | ... | ...

দশমীপূজা শেষে কৈলাশে ফিরে যান দেবী দুর্গা,অপেক্ষা আবারও শরতের


সংযুক্ত ছবি

নাজমুল হুদা, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীপূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে এ বছরের শারদীয় দুর্গাপূজা। বিজয়া দশমীতে পূজা, অঞ্জলি, ঢাকের বাদ্য আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত পূজামণ্ডপগুলোতে নেমে আসে বিদায়ের সুর। সিঁদুর খেলা, দেবীবরণ ও বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে ভক্তরা বিদায় জানান দেবী দুর্গাকে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দশমীপূজা শেষে দেবী দুর্গা তাঁর স্বামী মহাদেবের আবাস কৈলাশে ফিরে যান। রেখে যান আশীর্বাদ, সম্প্রীতি ও আগামী শরতে আবার ফিরে আসার প্রত্যাশা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শরৎকালে দেবী দুর্গা সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে তাঁর পিতৃগৃহে বেড়াতে আসেন। তাঁকে ঘিরেই পাঁচ/ছয়দিন ধরে চলে দুর্গোৎসবের নানা আয়োজন। মহালয়ায় দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ ও মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় মূল পূজা। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীর পূজা-অর্চনা শেষে আসে বিজয়া দশমী। এদিন দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্যদিয়ে শেষ হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বিজয়া দশমীর সকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় দশমীপূজা। ভক্তরা দেবীর চরণে প্রণাম, অঞ্জলি ও প্রার্থনার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল কামনা করেন। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দর্পণ বিসর্জন, দেবীবরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। এরপর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয় দেবীর বিদায়পর্ব। প্রচলিত রীতি অনুসারে, বিবাহিত হিন্দু নারীরা দেবী দুর্গাকে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং একে অপরকে সিঁদুর পড়িয়ে শুভ কামনা জানান। অনেক পূজামণ্ডপে এই আয়োজন ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে বিদায়ের মুহূর্তে আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মনে জাগে বিষাদের অনুভূতিও। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা মহাদেবের আবাস কৈলাশ থেকে মর্ত্যে আগমন করেন এবং পূজা শেষে আবার কৈলাশে ফিরে যান। দেবীর এই আগমন ও প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বাঙালি হিন্দু সমাজে গড়ে উঠেছে নানা আচার, ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাস। দেবী দুর্গার বিসর্জন কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মধ্যদিয়ে পূজার সমাপ্তি এবং দেবীর পুনরাগমনের প্রত্যাশাও প্রকাশ পায়। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানান। তাঁদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, ‘আসছে বছর আবার হবে’। এই আহ্বানের মধ্যেই মিশে থাকে আগামী শরতে দেবীকে আবার বরণ করে নেওয়ার আকুলতা। বিজয়া দশমী সম্প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও বিজয়া দশমীর আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে। ছোটরা বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়, সমবয়সীরা কোলাকুলি করে এবং একে অপরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানায়। অনেক বাড়িতে মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এই রীতিগুলো পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। দুর্গাপূজা শুধু পূজা-অর্চনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনমেলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পূজামণ্ডপে নানা বয়সী মানুষের সমাগম, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যদিয়ে উৎসবটি সার্বজনীন আনন্দের আবহ তৈরি করে। বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে পূজামণ্ডপের আলোকসজ্জা ও উৎসবের কোলাহল ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে। প্রতিমা বিসর্জনের পর মণ্ডপগুলো ফাঁকা হয়ে গেলেও ভক্তদের মনে থেকে যায় পূজার স্মৃতি, আনন্দ ও আবেগ। কৈলাশে ফিরে যান দেবী দুর্গা। এমন ধর্মীয় বিশ্বাসকে ধারণ করেই ভক্তরা অপেক্ষা করতে থাকেন পরবর্তী শরতের। দেবীর বিদায় তাই কেবল বিষাদের নয়, নতুন করে আশাবাদী হওয়ারও উপলক্ষ্য। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক দেবী দুর্গার আরাধনা মানুষকে ন্যায়, সত্য ও কল্যাণের পথে চলার প্রেরণা দেয়। সেই বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে সঙ্গী করে ভক্তদের প্রত্যাশা, আবারও আসবে শরৎ, বাজবে ঢাক, সাজবে পূজামণ্ডপ, আর সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে ফিরে আসবেন দেবী দুর্গা। নন্দীগ্রাম কলেজপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অদ্বৈত কুমার আকাশ বলেন, এবার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ৪৮টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার ছিলো। নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।